ডেস্ক রিপোর্ট

২৪ এপ্রিল ২০২২, ৮:০১ অপরাহ্ণ

প্রখ্যাত সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ারের ৭৬তম জন্ম দিন আজ

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২৪, ২০২২ ৮:০১ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

সিলেটের সকাল রিপোর্ট : উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক কমনওয়েলথ জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন‘র (সিজেএ) ইমেরিটাস সভাপতি এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাক‘র সাবেক নির্বাহী সম্পাদক বৃহত্তর সিলেটের কৃতি সন্তান মরহুম হাসান শাহরিয়ারের ৭৬ তম জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে তার আত্মীয় স্বজন ও শুভাকাঙ্খীদের উদ্যেগে ঢাকায় মরহুমের মাজার জিয়ারত ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা, সিলেট, চট্রগ্রাম, ভোলায় একই কর্মসূচি পৃথক ভাবে পালিত হবে।
বিশ^খ্যাত আন্তর্জাতিক সাময়িকী নিউজউইক-এ তিনি কাজ করেছেন তিন দশক। বৃহত্তর সিলেটের কৃতি সন্তান হাসান শাহরিয়ারের জন্ম সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগরে। তার পিতা ছিলেন মরহুম মকবুল হোসেন চৌধুরী তৎকালীন মুসলিম সাংবাদিকতার অগ্রদুত। শাহরিয়ার সুনামগঞ্জ সরকারী জুবিলী স্কুল থেকে ’৬২ সালে মাধ্যমিক ও সুনামগঞ্জ কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। পরে করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (অনার্স) এবং এমএ ডিগ্রী লাভ করেন। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারি হাসান শাহরিয়ারের জন্ম ১৯৪৭ সালে ২৫ এপ্রিল।
হাসান শাহরিয়ার বাংলাদেশের সাংবাদিকতাকে বিশ^ দরবারে পৌঁছে দিয়ে দেশের জন্য যে সম্মান এনে দিয়েছেন তা বিরল। তিনি সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনেক কাজ করেছেন। সাংগঠনিক দক্ষতা বলে তিনি আন্তর্জাতিক সংগঠন ও বহু ফোরামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি সততা ও দক্ষতার সাথেই যে সাংবাদিকতা করেছেন তাই নয় ; তিনি ছিলেন সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। আগামীর সাংবাদিকতার জন্য হাসান শাহরিয়ার কিংবদন্তী।

শাহরিয়ার দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশ^াসী ছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ¯েœহধন্য ছিলেন। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধুর অনেক নিউজ কভার করেছেন তিনি । তিনি কাজ করেছেন দলমতের উর্ধ্বে। তিনি অকৃতদার থাকলেও পারিবারিক জীবনেও ছিলেন দায়িত্ব সম্পন্ন এবং বন্ধুবৎসল। তিনি ‘অতীত অতীত নয়.’ শেষ ভালো যার সব ভাল তারা’,যারে দেখতে নারী তার চলন বাকা এবং নিউজ উইক এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিজয় এবং অত:পর শীর্ষক বই লিখে প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন।
ধর্মভীরু সদালাপী ও বন্ধু বৎসল হাসান শাহরিয়ার ২০০০ সালে প্রথম হজব্রত পালন করেন। সর্বশেষ ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারী পবিত্র ওমরাহ পালন করেন। ’৬০ এর দশকে দৈনিক ইত্তেফাকের সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা হিসেবে কাজ শুরু করে নির্বাহী স¤পাদক হয়ে অবসরে যান। পরে তিনি চট্রগ্রাম থেকে প্রকাশিত ডেইলী ‘পিপলস ভিউ‘র প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘ডেইলী সান’ এর সম্পাদকের দায়িত্ব কিছুদিন পালন করেছেন। তিনি দৈনিক সমকালে নিয়মিত কলাম লিখতেন।
শাহরিয়ার সাংবাদিকতায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট, কমনওয়েলথ প্রেস ইউনিয়ন এর ফেলো হিসেবে লন্ডন, কার্ডিফ, পোথস মাউথ, এডিনবরা প্রভৃতি স্থানে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ঐ সময় তিনি অক্সফোর্ডের এলিজাবেথ হাউজ এবং ব্রাডফোর্ডের টেলিগ্রাফ এন্ড আর্গস পত্রিকার সাথে সংযুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট ,ফিচার এজেন্সি নিউজ নেটওয়ার্ক, এমআরডিআইএস সহ আরো কয়েকটি সংস্থার নিয়মিত প্রশিক্ষক ছিলেন। তিনি কারাচিতে দৈনিক ডন ও একই সাথে ইত্তেফাকে কাজ করেছেন।
শাহরিয়ার বৈদেশিক সংবাদদাতা সমিতি-ওকাব -এর সভাপতি ছিলেন। পর পর দুই মেয়াদে( ২০০৩-২০১২) সুনামের সঙ্গে সাংবাদিকদের আন্তর্জতিক সংগঠন কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (সিজিএ) এর ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১২ সালে সিজিএ এর ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট অ্যামিরিটাস নির্বাচিত হন মাল্টা সম্মেলনে। তিনি দুবাই-এর খালিজ টাইম এবং ভারতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দৈনিক এশিয়ান এজ, দৈনিক ড্যাকান হেরাল্ড পত্রিকার বাংলাদেশের প্রতিনিধি ছিলেন।
তিনি তদানীন্তন পাকিস্তানের প্রথম সারির নেতাদের সাথে ঘনিষ্টভাবে মেলামেশার সুযোগ পান। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন,-মিয়া মমতাজ দৌলতানা, আব্দুল ওয়ালি খান, খান আব্দুল কাইয়ুম খান, নওয়াবজাদা নসরুল্লাহ খান, জুলফিকার আলী ভুট্টু, এয়ার মার্শাল আসগর খান (অবঃ) , নওয়াব আকবর বুগতি, গউস বকস বিজেঞ্জো, খায়ের বকস মারী, আতাউল্লা খান মঙ্গল, মাহমুদুল হক উসমানি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, আতাউর রহমান খান, ফজলুল কাদের চৌধুরী, খান এ সবুর, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, তাজুদ্দিন আহমদ, খন্দকার মুস্তাক আহমদ, এ এইচ এম কামরুজ্জামান প্রমুখ।
তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিস¤পন্ন অনেক নেতা ও ব্যক্তির সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেনঃ ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী, চন্দ্র শেখর, পি ভি নরসিমা রাও, কাশ্মিরি নেতা শেখ আব্দুল্লাহ, পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টু, নওয়াজ শরীফ, বেনজীর ভুট্টু, প্রেসিডেন্ট জিয়া-উল-হক, পারভেজ মোশারফ। জাপানের প্রধানমন্ত্রী তশিকু কাইফু, কম্বোডিয়ার প্রিন্স নরোদম সিহানুক, নোবেল বিজয়ী মাদার তেরেসা, ক্রিকেট তারকা ইমরান খান।
তিনি অনেক আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য ১৯৯৬ সালে জালালাবাদ ইয়ুথ ফোরাম তাকে একুশে পদক ও বাংলাদেশ ইন্টার রিলিজিয়ার্স ব্রাদার হুড এসোসিয়েশন পদক। শিলিগুড়ি (ভারত) উত্তর বঙ্গ নাট্য জগৎ তাকে বিশেষ ভাবে সম্মানিত করেছে। সিলেটের রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন ২০১১ সালে তাকে একুশে সম্মাননা প্রদান করে।#

 

 

শেয়ার করুন