ডেস্ক রিপোর্ট

৪ মে ২০২২, ২:১৮ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সিলেট শাখার মহান মে দিবস পালিত

আপডেট টাইম : মে ৪, ২০২২ ২:১৮ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস মহান মে দিবস পালনে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার কর্মসূচী পালিত। পহেলা মে (রোববার) সকাল ১০ ঘটিকার সময় সুরমা পয়েন্টে জমায়েত হয়ে  লাল পতাকা র‌্যালি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে এসে এক সমাবেশে মিলিত হয়।

র‌্যালি ও সমাবেশে সংগঠনের বিভিন্ন বেসিক ইউনিয়ন ও ইউনিটের নেতৃবৃন্দ যোগদান করেন। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার সংগ্রামী ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুরুজ আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ছাদেক মিয়ার পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন; জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সরকার, শাহপরাণ থানা কমিটির সংগ্রামী সভাপতি খোকন আহমদ,বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী পটু, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি সিলেট জেলা কমিটির যুগ্ন আহবায়ক মো সুজন মিয়া, স’মিল শ্রমিক ফেডারেশন রেজি; নং বি-২২০০ কেন্দ্রিয়  সহ-সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনছার আলী,মালনিছড়া রাবার শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক ও রাবার শিল্পের মজুরি বোর্ডের সদস্য মো: শাহীন মিয়া, চা শ্রমিক সংঘের নেতা জয় মাহাত্য কুর্মি, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক নাজমুল হোসেন সহ  প্রমূখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন: ১৮৮৬ সালের আজকের এই দিনে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার শ্রমিক দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিকদের রুখতে পুলিশ সেখানে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন শ্রমিক ।এছাড়াও গ্রেফতারও করা হয় অনেককে ফাঁসি দেওয়া হয় ৪ জন শ্রমিক নেতাকে । তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়ে শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় সরকার। এরপর ১৮৮৯ সালে ডেনমার্কেকের কোপেনহেগেনে জেনিভা কনভেনশনের মাধ্যমে ১ মে ‘ মহান মে দিবস’ হিসেবে বিশ^ব্যাপী পালনের  সিদ্ধান্ত হয়। শ্রমিকদের দাবি মাত্র একদিনেই পূরণ হয়নি।  তা পূরণ করতে সময় লেগেছে বহু বৎসর, দিতে হয়েছে বহু ত্যাগ তিতীক্ষা। তাই অতিতের  ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে শ্রমিক শ্রেণির যে প্রকৃত সংগ্রাম তা চালিয়ে নেওয়ার আহবান জানান।

বকক্তারা আরো বলেন; একক পরাশক্তি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তার বৈশ্বিক আগ্রাসনের প্রধান হাতিয়ারর ন্যাটোকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষচীন-রাশিয়ার জোটকে অগ্রসরমানতা বাধা দিতে সচেষ্ঠ। বিশ্বের প্রায় ১৮০টি দেশে তাদের সেনা উপস্থিতির তথ্য দিচ্ছে প্রচার মাধ্যম। অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়া ও বৃহৎ সাম্রাজ্যবাদে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে অগ্রসরমান পুজিঁবাদি চীন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল  পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদী মিত্রদের মোকাবেলা করে স্বকীয় বাজার ও প্রভাব বলয় সম্প্রসারণে অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক,সামরিক পদক্ষেপ গ্রহন করছে।  ইতিমধ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ সাম্রাজ্যবাদ তার প্রতিবেশি ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করেছে। প্রতিদিন বোমার আঘাতে মরছে, জ্বলছে ইউক্রেন। অবিলম্বে এ অন্যায় যুদ্ধ বন্ধ করার আহবান জানান। ২০০৩ সালে সাম্রাজ্যবাদী ইঙ্গ-মার্কিন কতৃক এক তরফাভাবে ইরাক আক্রমন, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন,সোমালিয়া ,সুদান আফগানিস্তান  তার ধারাবাহিকতায় ইউক্রেন সংকট।  আরও বলেন; দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থল সংযোগ সেতু এবং প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে নিয়ে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী প্রতিদ্বন্ধিতা ও প্রতিযোগিতা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে চলছে। বর্তমান পরিস্তিতিতে যেমন একদিকে বৈশ্বিক মন্দা ও ধসের কথা বলা হচ্ছে তেমনি ‘দ্বিতীয় শীতলযুদ্ধ’ এবং ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে’র প্রসঙ্গ সামনে আসছে। তাই প্রয়োজন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালালদের উচ্ছেদ করে শ্রমিক-কৃষক জণগনের সরকার ,রাষ্ট্র ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করা।

বক্তারা আরো বলেন: বর্তমান দ্রব্যমূল্যেও লাগামহীন উর্দ্ধগতির বাজারে দেশের বেসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত ও ব্যাক্তিমালিকানাধীন খাতের শ্রমিক কর্মচারীরা যে মজুরি পায় তা দিয়ে মাসের ১০ দিনও চলা কষ্টসাধ্য। প্রতিনিয়ত দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। চাল, ডাল,তেল,চিনি,শাকসবজিসহ দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে জর্জরিত জণগনের উপর সিলিন্ডার গ্যাস, ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য বৃদ্ধিও পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া, গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির কারণে জনজীবন দিশেহারা। সকল অত্যাচার নির্যাতন,শোষনের হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে শ্রমিক শ্রেনির নেতৃত্বে  শ্রমিক কৃষকের মৈত্রির ভিত্তিতে গণআন্দোলন গণঅভ্যুথানের মধ্য দিয়ে শ্রমিক কৃষকের রাষ্ট্র ,সরকার সংবিধান প্রতিষ্টার বিকল্প কোন পথ নেই ।

শেয়ার করুন