ডেস্ক রিপোর্ট

১৩ মে ২০২২, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ

জৈন্তাপুরে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, নৌকা ডুবিতে ১জন নিখোঁজ

আপডেট টাইম : মে ১৩, ২০২২ ৩:৩৫ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

জৈন্তাপুর (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে বন্যায় উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সারী ও বড় নয়াগং নদীর পানি বিপদ সীমার .৪৯ সেন্টি মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১৩ই মে) বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, গত ৩ দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলে পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে নিজপাট, জৈন্তাপুর ও চারিকাটা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের অনেক পরিবার গুলো। বন্যায় আটকে পড়া লোকজন নৌকা অথবা বেলায় করে উঁচু স্থানে আশ্রয়ের জন্য ছুটতে দেখা গেছে ।

বন্যায় পরিস্থিতি ও বন্যায় আটকাপড়াদের খোঁজ খবর নিতে এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, উপজেলা নিবার্হী অফিসার আল বশিরুল ইসলাম,জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

বন্যা কবলিত এলাকা নিজপাট ইউনিয়নের মেঘলী, বন্দরহাটি, লামাপাড়া, ময়নাহাটি, মোরগাহাটি, জাঙ্গালহাটি, মজুমদারপাড়া, নয়াবাড়ী, হর্নি, বাইরাখেল, গোয়াবাড়ী, তিলকৈপাড়া, বড়খেল, ফুলবাড়ী, বন্দরহাটি, ডিবিরহাওর, ঘিলাতৈল, মাস্তিং, হেলিরাই, জৈন্তাপুর ইউনিয়নের মুক্তাপুর, বিরাইমারা, বিরাইমারা হাওর, লামনীগ্রাম, কাটাখাল, খারুবিল, চাতলারপাড়, ডুলটিরপাড়, ১নং লক্ষীপুর, ২নং লক্ষীপুর, আমবাড়ী, ঝিঙ্গাবাড়ী, কাঠালবাড়ী, নলজুরী হাওর, বালিদাঁড়া, রামপ্রসাদ, থুবাং, বাউরভাগ উত্তর, বাউরভাগ দক্ষিণ।

উপজেলা সারীনদী ও বড় নয়াগাং নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সারী নদীর পানি বিপদসীমার .৪৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান সারী-গোয়াইন বেড়ীবাঁধ প্রকল্পের কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে সৃষ্টি ফ্লাস বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। তারা বন্যা প্লাবিত এলাকাগুলো সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ খবর রাখছেন। বন্যা কবলিতদের সহায়তার জন্য স্থানীয় মন্ত্রী মহোদয় সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরী প্রয়োজন দেখা দিলে আশ্রয় কেন্দ্র চালু করা হবে।

এদিকে, সকাল ১১ টায় বড় নয়াগাং নদীর শুক্কুরের ভাঙ্গা নামক স্থানে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে ৷ এঘটনায় ৫ নৌকা আরোহী প্রবল স্রেতে তলিয়ে যান ৷ স্থানীয়রা এগিয়ে এসে দ্রুত ২শিশু সহ ৪জনকে উদ্ধার করেন। এখন ১জন নিখোঁজ রয়েছেন ৷ নিখোঁজ ১জন হল গড়েরপার গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে আলমগীর মিয়া (২৮) ৷

নৌকাডুবির সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিখোঁজ আলমগীরের সন্ধান চালান ৷

এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত আলমগীরকে খোঁজে পাওয়া যায়নি ৷ দিকে অব্যহত বৃষ্টির কারনে আলমগীরের অনুসন্ধান কাজ কিছু সময় স্থগিত করা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল বশিরুল ইসলাম জানান, বন্যা প্লাবিত এলাকার খরব রাখা হচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের বন্যা পরিস্থিতিতে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। নৌকা ডুবির ঘটনায় উদ্ধার কাজ চলছে। উদ্ধার হওয়া শিশু সহ বাকীদের জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি ফ্লাস বন্যার কবল হতে নদী তীরবর্তী বাসিন্ধাদের সর্তক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

শেয়ার করুন