ডেস্ক রিপোর্ট

৩০ মে ২০২২, ৬:৩১ অপরাহ্ণ

মইয়ারচরে বিয়ের ৫ মাসের মাথায় স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রীর মৃত্য !

আপডেট টাইম : মে ৩০, ২০২২ ৬:৩১ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

সিলেটের সকাল রিপোর্ট : এসএমপি’র জালালাবাদ থানার মইয়ারচরে বিয়ের ৫ মাসের মাথায় স্বামীসহ পরিবারের লোকজনের নির্যাতনে নাজমিন বেগম (২০) এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। তিনি একই থানার জালালাবাদ ইউনিয়নের রায়েরগাওয়ের আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক মহিলাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামীর পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি যৌতুকের জন্য স্বামী নাঈমুদ্দিন স্ত্রী নাজমিন বেগমকে তার ঘরে বন্দি রেখে মা-বাবা ভাই বোনকে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করে।
নাজমিন বেগমের বড় ভাই মিজান উদ্দিন দাবি করেন, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি মইয়ারচর গ্রামে সাইফুদ্দিনের ছেলে নাঈমুদ্দিনের সাথে তার বোন নাজমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নানা অজুহাতে তাকে নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা। মিজান উদ্দিনের দাবি তার বোনকে যৌতুকের ১ লাখ টাকা নিয়ে আসার জন্য বারবার চাপ দিচ্ছিলো স্বামী ও তার বাবা-মা। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল।
সোমবার স্বামী নাঈমুদ্দিনের বাবা-মা খালাসহ সবাই মিলে বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়া হবে জানিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসার জন্য বাবা-মাকে বলেন। সরল বিশ্বাসে বাবা আব্দুস সাত্তার ও মা এক ভাই মিলে বোন নাজমিন বেগমকে নিয়ে বিকেলে স্বামীর বাড়ি আসেন।
মিজান উদ্দিন দাবি করেন, তার বাবা-মাকে অন্য রুমে বসিয়ে স্ত্রীকে ডেকে তার রুমে নিয়ে যায় নাঈমুদ্দিন। এরপর দরজা লাগিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকে। তারা চিৎকার শুনে ওই রুমে যেতে চাইলে বাবা-মাকে একটি রুমে আটকে রাখে। স্বামী নাঈমুদ্দিনের সাথে তার ভাই ফরহাদ উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন ও শ্বশুর সাইফুদ্দিন ও শাশুড়ী মিলে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে শোরগোল শুরু হলে দরজা খুলে দেয় নাজমিনের স্বামী। তখন গলায় উড়না পেচানো অবস্থায় নাজমিনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন বাবা-মা ও ভাই। তখন মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সহায়তায় মেয়েকে নিয়ে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন স্বামীর খালা রুবি বেগমও তার সাথে ছিলেন। তবে নাজমিনকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে সঙ্গে থাকা নাজমিনের খালা শাশুড়ি রুবি বেগমকে আটক করে পুলিশের হাতে তাকে তুলে দেয়া হয়।
জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এক মহিলা পুলিশের হেফাজতে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন