ডেস্ক রিপোর্ট

৫ জুন ২০২২, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ

মোমিনুলের শেষ কথা: ‘আমাকে বাঁচাও, বাঁচাও’

আপডেট টাইম : জুন ৫, ২০২২ ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশঘরের সামনে বসে মো. ফরহাদ নামে এক তরুণ বুকফাটা আর্তনাদ করে কান্না করছিলেন তার ভাইয়ের জন্য। কারণ তার ভাই সীতাকুণ্ডের কদমরসুল এলাকায় বিএম কন্টেইনার ডিপোতে আগুনের পর বিস্ফোরণের ঘটনায় মারা যান।

ফরহাদ জানান, বিএম কন্টেইনার ডিপো থেকে তার চাচাতো ভাই মো. মোমিনুল হককে নিয়ে আসার পর প্রথমে হাসপাতালের ওয়ার্ডে নেয়া হয়। ক্ষীণ আশা ছিল বেঁচে যাবেন তিনি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে ফরহাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ।

ফরহাদ জানান, ফোনে মোমিনুল হক তার কাছে বলেন, ‘আমার সারা গায়ে আগুন। আমাকে বাঁচাও, আমাকে বাঁচাও’। সীতাকুণ্ডে বিএম ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের পর ফোন করে এভাবেই চাচাতো ভাই ফরহাদের কাছে বাঁচার শেষ আকুতি জানিয়েছিলেন মোমিনুল। কিছুক্ষণ পর থেমে যায় সেই কণ্ঠস্বর।

রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি কেয়ারের সামনে মোমিনুলের সঙ্গে সর্বশেষ কথপোকথনের স্মৃতিচারণ এভাবেই করছিলেন তার চাচাতো ভাই ফরহাদ।

মোমিনুল হক, বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া এলাকার মাস্টার ফরিদুল আলমের ছেলে। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি।

চোখের পানি মুছতে মুছতে ফরহাদ আরও বলেন, আমার ভাই মোমিনুল হক আমাকে বাঁচাতে বলেছিল, আমি বাঁচাতে পারিনি। আমার ভাই পড়ালেখার পাশাপাশি এখানে চাকরি করত। গত কয়েকদিন আগে আমাকে বলেছিল, তুই বাড়ি কখন যাবি। তোকে সঙ্গে নিয়ে এবার বাড়ি যাব। এখন ভাইকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি; কিন্তু জীবিত নয় মৃত।

মোমিনুলের চাচা খোরশেদ আলম বলেন, মাত্র ৬ মাস আগে এ ডিপোতে কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগদান করে সে। আমার বড় ভাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। সেখান থেকেই অবসর নিয়েছেন। বড় ছেলে মোমিনুল মহসিন কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স শেষ করে ৬ মাস আগে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে এ ডিপোতে চাকরি নেয়।

মোমিনুল মহসিন কলেজে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছে। কিছু দিন পরে তার পরীক্ষা হবে। কিন্তু সেই পরীক্ষা দেয়া হলো না তার।

শেয়ার করুন