ডেস্ক রিপোর্ট

১ জুলাই ২০২২, ৯:১১ পূর্বাহ্ণ

আচার বেচে লাখপতি হাবিব

আপডেট টাইম : জুলাই ১, ২০২২ ৯:১১ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

আচারের নাম শুনলেই জিভে পানি কার না আসে। আচার পছন্দ করে না এমন মানুষের সংখ্যা হাতেগোনা। আর এই আচার বিক্রি করেই নারায়ণগঞ্জের হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী হয়েছেন লাখপতি!

নদী বিধৌত নারায়ণগঞ্জের ধলেশ্বরী তীরে ডিগ্রিচর ঘাটে আচার বিক্রি করেন তিনি। তার আচারের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে চারদিক। শুধু তাই নয়, অনেকেই আত্মীয় বাড়িতে মিষ্টি দ্রব্যের বদলে, হাবিবের আচার নিয়ে যান। ছুটির দিনগুলোতে তার আচার কেনার হিড়িক পড়ে যায়। বিশেষ করে শুক্র-শনিবার ২ থেকে ৪ মণ আচার বিক্রি হয় তার। বিশাল ডেক ভর্তি আচার নিয়ে দুপুরের পর নদী ঘাটে আসেন। রাত নয়টা-দশটার মধ্যে তার আচার বিক্রি হয়ে যায়। এক মণ আচার বানাতে খরচ হয় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। খরচ মিটিয়ে তিনি লাভ করেন মণ প্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভেসে বেড়াতে দেখা যায়। সেই ভিডিওতে দেখা যায় এক আচার বিক্রেতা ডেক ভর্তি আচার বিক্রি করছেন। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখাছিল- “হাবিব ভাইয়ের “কাচা ফলের ছেইচ্ছা অস্থির আচার, খেলা হবে!!! বাংলাদেশের এই প্রথম দেখলাম একসাথে ৪ মণ মানে ১৬০ কেজি আচারের বিশাল বড় পাতিল। খিচুড়ির মতো বিক্রি হচ্ছে আচার।”

ভিডিওতে দেখা যায়, বিশাল এক ডেক ভর্তি আচার বিক্রি করছেন এক ব্যক্তি। আর তাকে ঘিরে ভিড় করছেন অনেক মানুষ। ছোট ছোট প্লাস্টিকের কৌটা ভর্তি করে তিনি ক্রেতাদেরকে দিচ্ছেন। প্রতি কৌটা ১০ টাকা করে বিক্রি করছেন। এছাড়াও অনেককে বড় বক্স ভর্তি করে আচার নিয়ে যেতে দেখা যায়।

ভিডিও থেকেই মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সময় সংবাদ। তিনি বলেন, আমার আচার খেতে অনেক দূর থেকে মানুষ আসে। অনেকে খেয়েও যান আবার সঙ্গে পার্সেলও নেন। আমার আচার একদম ফ্রেশ। কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করি না।

পঞ্চাশোর্ধ্ব হাবিবুর রহমানের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলে। নব্বই দশকের দিকে তিনি চলে আসেন নারায়ণগঞ্জে। তিন সন্তানের জনক হাবিব জীবিকার তাগিদে যুক্ত হয়েছেন নানান পেশায়। সবশেষ তিনি একটি মসজিদের মোয়াজ্জিন ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে মনে সুপ্ত বাসনা ছিল ব্যবসা-বাণিজ্য করার। দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে তিনি মসজিদের চাকরি ছেড়ে দিয়ে আচারের ব্যবসা শুরু করেন। তিন বছর হলো তিনি আচারের ব্যবসা শুরু করেছেন। এরই মধ্যে হয়ে গেছেন লাখপতি।

হাবিবুর রহমান বলেন, মসজিদে চাকরি করে সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনা করানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাই করোনা শুরুর পর সিদ্ধান্ত নিলাম আচারের ব্যবসা শুরু করব। আলহামদুলিল্লাহ, এখন অনেক ভালো আছি। বছর শেষে আমার লাভ থাকে লক্ষাধিক টাকা।

কোথা থেকে এই আচার বানানো শিখেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছোটবেলায় নানান রকম ফল দিয়ে আচার বানিয়ে খেতাম। সেখান থেকেই মূলত আইডিয়াটা আসে। সেটাই কাজে লাগিয়েছি।

আচারে কি কি ফল ব্যবহার করেন জানতে চাইলে তিনি একদমে কাঁচা কলা, আমলকি, জলপাই, কামরাঙা, তেঁতুল, পেয়ারা, হরতকি, কাঁচামরিচ, ধনেপাতাসহ বিভিন্ন ফলমূলের নাম উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, এসব ফলমূল তিনি বাড়িতে ছেচে ছেচে তৈরি করেন। তাকে সাহায্য করেন তার স্ত্রী।

শেয়ার করুন