ডেস্ক রিপোর্ট

১ জুলাই ২০২২, ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ

যে গ্রামের সবাই মৎস্যজীবী

আপডেট টাইম : জুলাই ১, ২০২২ ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

বর্ষা মৌসুমে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের আগানগর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে মাছ ধরার ফাঁদ (বস্তা চাঁই) তৈরিতে ব্যস্ত এখন কারিগররা। এ গ্রামে মাত্র এক হাজার লোকের বসবাস।

শ্যামপুর গ্রামের প্রায় ৩০০ লোক ফাঁদ তৈরি, ফাঁদ দিয়ে মাছ শিকার ছাড়াও ফাঁদ বিক্রির সঙ্গে জড়িত। কেউ ফাঁদ তৈরি করছেন, কেউবা ফাঁদ দিয়ে মাছ শিকার করছেন আবার কেউ শুধু ফাঁদ বিক্রিতেই করছেন অর্থ উপার্জন। বর্ষা মৌসুমে মাছ শিকার আর শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদ করেই জীবিকা নির্বাহ করে থাকে এ গ্রামের মানুষ।

এবারের বর্ষায় নদী-নালা আর খাল-বিলে নতুন পানি এসেছে। মাছ শিকারের জন্য ভৈরবসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন হাটবাজারে এখন ফাঁদ কেনাবেচা হচ্ছে দেদার। তাই ব্যস্ততা বেড়েছে কারিগরদের। একেকটি ফাঁদ ২ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। বর্ষায় খাল-বিল আর উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ চলাচলের পথে পেতে রাখা হয় এই ফাঁদগুলো। একেকটি ফাঁদ ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করা যায়। একেকজন কারিগর প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় করে থাকেন।

এ ধরনের ফাঁদ দিয়ে চিংড়ি, বেলে, কই, শিং মাগুর, পুঁটি, খলিশা, বাইন, ট্যাংরা মাছ শিকার করা যায়। মাছ শিকারের পর নিজেদের দৈনন্দিন খাবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি উপার্জন করে থাকেন তারা।

কারিগরদের একজন হোসেন মিয়া। তিনি বলেন, প্লাস্টিকের বস্তা, বাঁশ, কাঁটা, শলাকা ও সুতা দিয়ে তৈরি করা হয় এসব ফাঁদ। এসব চাঁই (ফাঁদ) দিয়ে নদী থেকে বিভিন্ন জাতের মাছ ধরা যায়।

কারিগর জহির মিয়া বলেন, ‘আমরা একেকজন কারিগর দৈনিক ৫টা চাঁই (ফাঁদ) বানাতে পারি। একটি চাঁইয়ের মূল্য ২৫০ টাকা করে। চাঁইগুলো তৈরির পর ভৈরবসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে থাকি। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে এই শিল্পকে আরও বড় পরিসরে করা যেত।’

মাছ শিকারি দেলোয়ার বয়াতি বলেন, ‘নদীতে মাছ শিকার করেই আমরা জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। বর্তমানে কিছু জেলে নদীতে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ শিকার করায় দেশীয় প্রজাতির পোনা মাছ ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন করায় নদীতে এখন আর তেমন মাছ পাওয়া যায় না।’

মাছ শিকারি সাদেক মিয়া বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে আমাদের মাছ শিকারই মূল পেশা। মাছ ধরতে পারলে আমাদের ভালো একটা রুজি হয়। এ রুজি দিয়ে আমরা মোটামুটি কিছু দিন সচ্ছলভাবেই চলতে পারি।’

এলাকাবাসী জানান, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ফাঁদ তৈরি করে থাকেন। কার্তিক মাস পর্যন্ত নদীতে দেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করে তা বাজারে বিক্রি করে। এসব ফাঁদ দিয়ে একেকজন জেলে প্রতি মৌসুমে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা উপার্জন করে থাকেন।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা লতিফুর রহমান সুজন বলেন, ‘বর্ষাকালে যখন নদীতে পানি চলে আসে, তখন আমাদের জেলে সম্প্রদায় বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে জাল বা ফাঁদ তৈরি করে মাছ ধরে থাকে। আমরা জেলেদের সবসময় পরামর্শ দিয়ে থাকি, তারা যেন কখনো নদী বা খাল-বিলে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ শিকার না করে। তারা যেন বৈধ উপায়ে মাছ শিকার করে।’

শেয়ার করুন