ডেস্ক রিপোর্ট

৫ জুলাই ২০২২, ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ

তেল-গ্যাসের সংকটে সিলেট জুড়ে লোডশেডিং

আপডেট টাইম : জুলাই ৫, ২০২২ ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

আনাস হাবিব কলিন্স : সিলেট জুড়ে শুরু হয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। দিন কিংবা রাত যে কোন সময়-এই বিদ্যুৎ বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। ভ্যাপসা গরমের মাঝে বিদ্যুৎ বিড়ম্বনায় শহর এবং গ্রামের লোকজন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, গ্যাসের স্বল্পতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে সিলেটসহ অনেক জায়গাতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এটি বিদ্যুৎ বিভাগের সৃষ্ট কোন সমস্যা নয়। বিষয়টি নিয়ে খোদ জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী ফেসবুকে এক পোস্টে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হবার কারণে সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, সিলেটে দুপুর ১২ টায় যেমন বিদ্যুৎ চলে যায়; তেমনি রাত ২টায়ও হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। দিন রাত মিলিয়ে প্রায় তিন চারবার লোডশেডিং হচ্ছে সিলেটে। এটা আবার কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জন্য নয়। সারা সিলেট বিভাগেরই একই অবস্থা বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিং করার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদাসীন।

দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে লোকজন নাকাল। বিশেষ করে ঘন ঘন বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে শিশু এবং বৃদ্ধরা নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছেন। মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।

বিউবো সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির জানিয়েছেন, গ্যাসের স্বল্পতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সিলেট বিভাগ জুড়ে পিডিবির ১শ’ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি জানান, সিলেট বিভাগে ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে এক ঘন্টার অধিক কোথাও লোডশেডিং হওয়ার কথা নয় বলেও মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই বিদ্যুতের লোডশেডিং তাদের মারাত্মক সমস্যায় ফেলেছে। জাতীয় এ সমস্যা নিরসনে লোডশেডিং এর মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নির্দিষ্ট সময়ের ছক বেঁধে লোডশেডিং হলে সমস্যা অনেকটা লাঘব হবে বলেও উল্লেখ করেন গ্রাহকরা।
যোগাযোগ করা হলে পিডিবি’র সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলুল করিম জানান, ৩৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকা সত্বেও ৫ মেগাওয়াটের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি দূর করতে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন সরবরাহ ফিডার বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তবে, তাও খুব সামান্য সময়ের জন্য। এতে করে গ্রাহকের খুব সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলে জানান তিনি।
পিডিবি’র সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শামছ-ই-আরেফিন জানান, চাহিদার তুলনায় ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। তাদের ঘাটতি চাহিদার এক তৃতীয়াংশ বলে জানান তিনি।

চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতি থাকায় ৬৪ হাজার গ্রাহক সাময়িক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পিডিবি’র সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার। তিনি জানান, গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে বিতরণ বিভাগ-৩ এ ৬ মেগাওয়াটের ঘাটতি ছিল।

সূত্র জানায়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর দেশে তেল সংকট দেখা দেয় । তাই তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এতে বন্ধ হয় প্রায় ১৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, বিবিয়ানা গ্যাস প্ল্যান্ট শাটডাউনে থাকায় গ্যাসের চাপ কমে যায়। এ জন্য গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। যার ফলে প্রায় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদার চেয়ে কম উৎপাদন হচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণ করতে সারা দেশে লোড ভাগ করে দিয়েছে ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টার (এনএলডিসি)। সিলেটেও এ নির্দেশনা পালন করা হচ্ছে। তাই পিক আওয়ারে লোডশেডিং হবে। তেল গ্যাসের এই সংকট সমাধান না হলে এভাবে চলতে হবে। তবে, বিবিয়ানা প্ল্যান্ট চালু হলে সংকট কিছুটা হ্রাস পাবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন