ডেস্ক রিপোর্ট

১৭ জুলাই ২০২২, ৩:০৪ অপরাহ্ণ

ওসমানীনগরে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, ক্ষুদ্ধ গ্রাহকেরা

আপডেট টাইম : জুলাই ১৭, ২০২২ ৩:০৪ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

ওসমানীনগর প্রতিনিধি: সিলেটের ওসমানীনগরে ভ্যাপসা গরমে লোডশেডিং হচ্ছে চরমে। লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। গত কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিংও। ভ্যাপসা গরম ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। হঠাৎ করে কোনো ঘোষণা ছাড়াই ভ্যাপসা গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে ওসমানীনগরে। আবার ঘন্টায় ৪ থেকে ৫ বার লোডশেডিংও হচ্ছে। এমন অবস্থায় হাঁপিয়ে উঠছে গ্রাহকদের জনজীবন। বিদ্যুৎ অফিসে বার বার ফোন করেও কোনো সাড়া পায় না গ্রাহকরা। লোডশেডিংয়ে উদাসীন কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সারা উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সকাল সাড়ে সাতটায় বিদ্যুতের দেখা পাওয়া গেলেও ভ্যাপসা গরমে নির্ঘুম রাত কাটয়েছেন অনেকেই। পরদিন শনিবার রাত ১১টার দিকে লোডশেডিং শুরু হয় উপজেলা জুড়ে। পরদিন সকাল ৮টায় মিলে বিদ্যুৎ। তাও আবার স্থায়ী নয়। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য। এই ঘরমে এতো লম্বা লোডশেডিংয়ের কারণ জনতে গ্রহকরা কাশিকাপন পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের মোবাই নাম্বারে বার বার কলে দিলেও সংযোগ পান না। একই সাথে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ভাবিয়ে তুলছে গ্রাহকদের। এমন পরিস্থিতিতে গ্রহকরা সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাশিকাপন পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার(ডিজিএম) মুজিবুর রহমান যোগদানের পর থেকে বিদ্যুৎ অফিসকে নিজের ইচ্ছা মতো পরিচালনা করছেন। ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং এর পাশাপাশি সরকারী কর্মকর্তা, সাংবাদিক বা উপজেলার রাজনৈতিক কোন ব্যক্তির ফোন রিসিভ করেন না তিনি। দেশের সকল জায়গায় বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে লোডশেডিংয়ের রুটিন করা হলেও ওসমানীনগরে কোন রুটিন বা নিয়ম মানা হচ্ছে না। এই গরমে দিন ছাড়াও সারা রাত ধরে লোডশেডিং হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রচন্ড গরমের কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের অনেকেই জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে স্থানীয় হাসপাতালসহ চিতিৎসা কেন্দ্রে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সেবাগ্রহীতার ভিড় বাড়ছে। সব মিলিয়ে প্রচন্ড গরম ও লোডশেডিংয়ে উপজেলার সর্বত্রই জনজীবনে নেমে এসেছে চরম অস্বস্তি ও দুঃসহ যাতনা।

উপজেলার কয়েকজন গ্রাহক জানান, দিনে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ওসমানীনগরে সারা রাত লোডশেডিং হচ্ছে। অন্য এলাকায় রুটিন থাকলেও ওসমানীনগরে মনগড়া ভাবে লোডশেডিং করে গ্রাহকদের উসকিয়ে তুলছেন পল্লী বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা।

ঘন ঘন লোডশেডিং এর কারণ জানতে রবিবার একাধিকবার কাশিকাপন পল্লী বিদ্যুৎ জোন অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার(ডিজিএস) মুজিবুর রহমানের মোবাইলে বারবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শেয়ার করুন