ডেস্ক রিপোর্ট

৩১ জুলাই ২০২২, ১:১৭ অপরাহ্ণ

সিলেট ওসমানী হাসপাতালে শিশু হৃদরোগ ইউনিট চালু

আপডেট টাইম : জুলাই ৩১, ২০২২ ১:১৭ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

আহমাদ সেলিম : সিলেট বিভাগের মধ্যে সর্বপ্রথম সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে শিশু হৃদরোগ ইউনিট খোলা হয়েছে। দশ শয্যা বিশিষ্ট এই ওয়ার্ডে এখন থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের সেবার বিষয়টি নিশ্চিত হলো। এক্ষেত্রে বেশী উপকৃত হবে গরিব অসহায় পরিবারের শিশুরা। হাসপাতালের পরিচালক এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন সরকারি-বেসরকারী হাসপাতালে ব্যাপক হারে হৃদরোগে আক্রান্ত শিশু রোগীর দেখা মিলছে। ওসমানী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডেও তারা বিচ্ছিন্নভাবে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছে। এখন থেকে সিলেট বিভাগের সেই রোগীরা নির্দিষ্ট একটি স্থানে এসে চিকিৎসা নিতে পারবে।

সিলেটে হৃদরোগে আক্রান্ত শিশু রোগী সবসময় পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিবছর এই সংখ্যা বাড়ছে। যথাসময়ে চিকিৎসা না পেয়ে এদের অর্ধেকই এক বছর বয়সের আগেই মারা যায়। এর মধ্যে গরিব অসহায় রোগীদের স্বজনরা বেশী বেকায়দায়। তারা ওসমানী হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা না পেয়ে ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে শিশুদের নিয়ে ছুটাছুটি করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের হৃদরোগ যেমন জটিল, তেমনিই তার চিকিৎসা এবং রোগ ব্যবস্থাপনাও ব্যয়বহুল। গরিব পরিবারগুলোর পক্ষে সেই চিকিৎসা ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসা করাতে না পেরে অনেক শিশু অংকুরেই নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দেশে যত শিশুর মৃত্যু হয়, তার মধ্যে শতকরা ১০ ভাগের মৃত্যু হয়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। অন্যদিকে, হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়।

জানা যায়, হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের অস্ত্রোপচার বেশ জটিল হওয়ায় সরকারি বেশিরভাগ হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার করা হয় না। সরকারি জেলা হাসপাতালগুলোতে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় জন্মগত হৃদরোগে মারা যাচ্ছে অসংখ্য শিশু। তবে বর্তমানে সিলেটে সেই সংখ্যা কমে আসবে বলে মনে করছেন হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসকরা।

ওসমানী হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মো. মোখলেছুর রহমান জানান, ‘ঢাকার বাইরে সিলেটে প্রথমবারের মতো শিশুদের হৃদরোগের চিকিৎসার সুযোগ করে দেয়া হলো সিলেট ওসমানী হাসপাতালে।

হাসপাতালের দ্বিতীয়তলার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে হৃদরোগ বিভাগ। সেই বিভাগের পাশে নতুন ভবনে শিশুদের এই ইউনিট খোলা হয়েছে। দশ শয্যা দিয়ে ইউনিটটি প্রাথমিকভাবে সাজানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই ইউনিট খোলার মাধ্যমে বেশী উপকৃত হবে গরিব অসহায় রোগীদের পরিবারগুলো। তারা টাকার অভাবে অনেক সময় চিকিৎসা করাতে পারেননা। অন্যদিকে, হাসপাতালে শিশু হৃদরোগীদের জন্য আলাদা কোনো ওয়ার্ড না থাকায় এতদিন গরিব রোগীরা বিচ্ছিন্ন্ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে। নির্দিষ্ট ওয়ার্ড না থাকায় অনেক অভিভাবক প্রাইভেট চিকিৎসকের শরনাপন্ন হন নতুবা সিলেটের বাইরে ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা করান।’

তিনি আরও বলেন, ‘জটিল রোগী হলে গরিব রোগীরাও যাতে ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারেন আমরা সেব্যাপারেও রোগীর স্বজনদের পরামর্শ দিতে পারবো।

এছাড়া, দেশের মধ্যে অনেক সংস্থা আছে যারা বিনা খরচে শিশু হৃদরোগীদের অপারেশনেরও ব্যবস্থা করছে। কিন্তু জানার অভাবে সেই সুযোগটা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সিলেটের গরিব রোগীরা। আমাদের হাসপাতালে ইউনিটটি খোলার মধ্য দিয়ে আমরা সেই সংস্থাগুলোর সাথেও একটা সমন্বয় রাখার চেষ্টা করবো।’

ছোটদের হৃদরোগের ক্ষেত্রে অনেক সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকে, যা সঠিক যন্ত্রপাতি ও অদক্ষদের দিয়ে নিরূপণ করা সম্ভব হয় না। চিকিৎসক এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগই মারা যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

যোগাযোগ করা হলে সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া জানান, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে দশশয্যা দিয়ে শুরু করেছি। আরো ঢেলে সাজানোর ইচ্ছে রয়েছে আমাদের। তিনি বলেন, ওসমানী হাসপাতালে এতোদিন শিশুদের জন্য আলাদা হৃদরোগ ইউনিট ছিলোনা। তারপরও অনেক ওয়ার্ডে শিশুরা হার্টের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসছে, চিকিৎসা নিচ্ছে। আলাদা ইউনিট হবার ফলে হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের একটা নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। সেইসাথে তাদের নির্দিষ্ট হিসেবও থাকবে।’
ওসমানী হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক জানান, যেসব মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, অপুষ্টিজনিত সমস্যা এবং রক্তশূন্যতা থাকে, সেসব মায়ের সন্তানের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। সেই সঙ্গে রয়েছে অসচেতনতা, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়া, গর্ভকালীন সঠিকভাবে নিজের যত্ন না নেওয়া, খাদ্যাভাস, রুবেলা টিকা গ্রহণ না করার কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশে শিশু-হৃদরোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

শেয়ার করুন