ডেস্ক রিপোর্ট

৫ আগস্ট ২০২২, ৩:১৮ অপরাহ্ণ

বন্ধুর মোবাইল থেকে ছবি নিয়ে স্মৃতিকে ব্ল্যাকমেইল করে শ্যামল দাস

আপডেট টাইম : আগস্ট ৫, ২০২২ ৩:১৮ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

বন্ধুর অজান্তেই তার মোবাইল ফোন থেকে ছবি নিয়ে স্মৃতি রানী দাশকে ব্ল্যাকমেইল করে শ্যামল দাস। আর এই ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েই স্মৃতি রানী শেষপর্যন্ত আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্মৃতি রানী দাশ (২০) সিলেটের এমসি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী। সে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের সাপান্তার যুগল কিশোর দাাসের মেয়ে। গত ২৫শে মে এমসি কলেজের নতুন হোস্টেলের চারতলার ৪০৩নং কক্ষ থেকে স্মৃতি রানী দাসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে ছাত্রী হোস্টেলের তৃতীয় তলায় ৩০৭নং কক্ষে থাকতেন। স্মৃতি আত্মহত্যা করেছিলেন বলে তখন জানিয়েছিল পুলিশ।

পরে স্মৃতির আত্মহত্যার ঘটনায় পেনাল কোডের ৩০৬/৩৪ ধারায় শাহপরান থানায় মামলা (নং১৫/২৫/৫/২২) করেছিলেন তার বাবা যুগল কিশোর।

এ ঘটনার দুই মাস ১২ দিনের মাথায় তার মৃত্যুর জন্য দায়ী শ্যামল দাস (২১) নামে এক যুবককে বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরীর জালালাবাদ আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করে বিকালে জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে নেয় এসএমপির শাহপরান (র.) থানার সদস্যরা। সে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার সুধাংশু দাসের ছেলে।

এ ঘটনায় নিজের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন শ্যামল দাস। সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আাদালতের বিচারক সাইফুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

সেই জবানবন্দির বরাত দিয়ে আদালত সূত্র ও পুলিশ জানায়, সত্যজিৎ দাশ নামে স্মৃতি রানীর একজন বন্ধু ছিল। ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ায় তাদের মধ্যে ছবি আদানপ্রদানের ঘটনা ঘটে। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে থাকতো৷ এদিকে একই গ্রামের হওয়ায় আটক হওয়া আসামি শ্যামল দাস ঢাকা গেলে প্রায়ই সত্যজিতের জগন্নাথ হলে থেকেছে। সেখান থেকে সত্যজিতের অজান্তেই তার মোবাইল ফোন থেকে স্মৃতির বেশকিছু ছবি নিয়ে ফেইক আইডি দিয়ে স্মৃতিকে ব্ল্যাকমেইল করে মানসিক চাপে ফেলে শ্যামল দাস। এভাবে তার কাছ থেকে সে টাকা আদায় করতো। স্মৃতি মারা যাওয়ার আগেরদিনই তার আপত্তিকর ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে তার কাছ থেকে ২৫০০ টাকা বিকাশে নেয় শ্যামল দাস। এর পরেরদিনই স্মৃতি আত্মহত্যা করে।

তবে, এ ঘটনায় স্মৃতি রানী আত্মহত্যা করবেন তা ভাবতে পারেনি শ্যামল দাস। বিকাশের নম্বরের সূত্র ধরেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

শাহপরান (র.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুল হক জানান, স্মৃতির বাবাকে বাদী করে আমরা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা নিয়েছি। ওই মামলায় শ্যামল দাসকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে সে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তিনি আরও জানান, স্মৃতির মোবাইল ফোনের লক খুলতে পারলে আরও তথ্য জানা যাবে। সেটি সিআইডির মাধ্যমে এক্সপার্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। আপাতত ৫ দিনের ক্ষুদে বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য তদন্তকারী কর্মকর্তার সংগ্রহে রয়েছে।

সিলেটের সকাল/লবীব আহমদ

শেয়ার করুন