ডেস্ক রিপোর্ট

৬ আগস্ট ২০২২, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ

গ্রামের বাড়িতে চিরনিদ্রায় শায়িত লন্ডন প্রবাসী সামিরা : পরিবারে মাতম

আপডেট টাইম : আগস্ট ৬, ২০২২ ৭:৩৪ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

ওসমানীনগর প্রতিনিধি : গ্রামের বাড়ি ওসমানীনগর উপজেলার দিরারাই খাতুপুরে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী সামিরা ইসলাম (২০)। বিকাল সাড়ে ৫টায় উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের পারকুল মাদরাসা মাঠে সামিরা ইসলামের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এর পর তাদের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ময়নাতদন্তশেষে এর আগে সামিরার লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। তার মা-ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
গত শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে তার বাবা যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও তার ভাই মাইকুল ইসলাম মারা যান।
জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান প্রবাসী পরিবারের পাঁচ সদস্য যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম (৫০) ও তার ছোট ছেলে মাইকুল ইসলাম (১৮), রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হুছনে আরা বেগম (৪৫), ছেলে সাদিকুল ইসলাম (২৫) ও মেয়ে সামিরা ইসলাম (২০)। পরদিন সকালে তাদের অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম ও ছেলে মাইকুল ইসলাম মারা যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় অন্যদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে গত দুইদিন আগে হুছনে আরা বেগম ও সাদিকুল ইসলাম সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেন। তবে গত শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সামিরা ইসলাম।
সরেজমিন শনিবার বিকেলে দয়ামীর ইউনিয়নের ধিরারাই গ্রামে সামিরা ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সামিরার লাশ দাফনের পূর্বের সামিরাদের বাড়িতে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। লাশের ময়না তদন্ত শেষে বিকাল ৫টার দিকে স্বজনরা সামিরার লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরলে কান্নার মাত্তম শুরু হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা, ভাই এবং স্বজনরা। তাদের শান্তনা দিতে এসে অনেকে নিজেরাই অশ্রæসিক্ত হয়ে পড়েন। সামিরার মা হুসনারা বেগম কাঁদলেও এখন আর চোখের জল আসছে না তার। স্বামী-সন্তান হারানোর শোকে গত কয়দিনের কান্নায় তার চোখের জল শুকিয়ে গেছে। ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাঈন উদ্দিন সামিরার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, সামিরা ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হবে। প্রসঙ্গত, উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের দিরারাই খাতুপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামসহ তার পরিবার যুক্তরাজ্য থেকে গত ১২ জুলাই বাংলাদেশে আসেন। গত ১৮ জুলাই ওসমানীনগরের তাজপুর মঙ্গলচন্ডী রোডের একটি বাসার দ্বিতীয় তলার একটি ইউনিট ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। গত ২৫ জুলাই রাতের খাবার শেষে প্রবাসী রফিক তার স্ত্রী সন্তানসহ একটি কক্ষে এবং রফিকুল ইসলামের শ্বশুর আনফর আলী, শাশুড়ি বদরুন্নেছা, শ্যালক দেলোয়ার হোসেন, শ্যালকের স্ত্রী শোভা বেগম ও শিশু মেয়ে সাবিলা বেগম অন্য কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। মঙ্গলবার সকালে বাসার স্বজনরা অনেক ডাকাডাকি করার পর প্রবাসী রফিকুল ইসলামসহ তার স্ত্রী-সন্তানরা ঘরের দরজা না খোলায় ৯৯৯ নম্বরে কল করলে দুপুরে পুলিশ এসে বাসার দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়।

শেয়ার করুন