ডেস্ক রিপোর্ট

২৫ আগস্ট ২০২২, ১২:২৬ অপরাহ্ণ

কোম্পানীগঞ্জের কলেজ অধ্যক্ষ নজরুলের বিরুদ্ধে এবার শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ : শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

আপডেট টাইম : আগস্ট ২৫, ২০২২ ১২:২৬ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার এম. সাইফুর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন প্রতিষ্ঠানের এক সিনিয়র প্রভাষক। এ ঘটনার প্রতিবাদে ওই কলেজের শিক্ষকরা বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন শুরু করেছেন। আর অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাজপথে মানববন্ধন করেছেন। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, অধ্যক্ষ অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরে যাবে না।
কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান, গত ২৪ আগস্ট সকালে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তার কক্ষে ডাকেন সমাজ কল্যাণ বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক মোঃ ইকবাল হোসেনকে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী ওই শিক্ষককে রুটিন বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন অধ্যক্ষ। ইকবাল হোসেনের একটি ক্লাস সকাল ১১ টায় ও অন্যটি বিকাল ৩টায় পড়ায় তিনি অধ্যক্ষকে বিষয়টি সমন্বয়ের অনুরোধ করেন। এ নিয়ে আলাপ-আলোচনার এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন অধ্যক্ষ নজরুল। অধ্যক্ষ তার চেয়ার থেকে উঠে প্রভাষকের গায়ে হাত তোলেন এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এ সময় কক্ষে উপস্থিত অন্য শিক্ষকরা তাকে শান্ত করেন।
বিষয়টি জানাজানি হবার পর বৃহস্পতিবার থেকে কলেজের শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন। একই দিনে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় মানববন্ধন করে অধ্যক্ষের অপসারণের দাবী জানায়। শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে এ সময় শিক্ষকরাও সংহতি প্রকাশ করেন।
এম. সাইফুর রহমান ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মোরশেদ আলম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে অধ্যক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছি আমরা। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় টিকে আছেন তিনি। কলেজের কোন শিক্ষক তার অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললেই তাকে হেনস্থা করা হয়। অধ্যক্ষের অনিয়মের বিষয়ে কথা বলায় বুধবার আমাদের সহকর্মী ইকবাল হোসেনকে মারধর করেছেন তিনি। আমরা দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের অপসারণ চাই।
কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ বলেন, শিক্ষককে মারধরের বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না। এ বিষয়ে তারা কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং বরাবরে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, সারাদেশে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ সরকারিকরণ হলেও কোম্পানীগঞ্জে কোন কলেজ সরকারিকরণ হয়নি। এজন্য কলেজ অধ্যক্ষের অযোগ্যতাকে তিনি দায়ী করেন।
সমাজ কল্যাণ বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, নতুন সময়সূচি অনুযায়ী আমার দুটি ক্লাসের মধ্যখানে তিন ঘন্টা ব্যবধান হওয়ায় আমি অধ্যক্ষকে বিষয়টি সমন্বয় করতে বলি। এতে তিনি উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং এক পর্যায়ে চেয়ার থেকে উঠে তাকে মারধর ও গালিগালাজ করেন।
অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম শিক্ষককে লাঞ্ছনার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি ক্লাসের বাইরে একদিনের ছুটি চাচ্ছিলেন। ছুটি না দেওয়ায় তিনি ওইদিন ক্লাসে ফিরে লাঞ্ছনার অভিযোগ তুলেছেন।

শেয়ার করুন