ডেস্ক রিপোর্ট

২৪ জানুয়ারি ২০২৩, ১:৪০ অপরাহ্ণ

সাপের সন্ধানে ছুটে চলা এক যুবক লিপ্টু

আপডেট টাইম : জানুয়ারি ২৪, ২০২৩ ১:৪০ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

জিতু আহমদ, ওসমানীনগর : মানুষের জীবন রক্ষায় লোকালয়ে আসা বিষধর সাপ উদ্ধার করেন সিলেটের উদীয়মান উদ্যোক্তা লিপ্টু। মানুষের বাড়ি ঘরে সাপের বিচরণে সাপ আতংকে ডাক পরে লিপ্টু দাসের। বেসরকারি সংস্থা স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে লোকালয়ে থাকা প্রায় বিভিন্ন প্রজাতির সাপ উদ্ধার করে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেয়ার কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

জানা গেছে, গত দুই বছরে সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থান থেকে কিং কোবরা, পদ্মগোখরা, শঙ্খিনী, গ্রিন পিট-ভাইপার, নির্বিষ অজগর, কুকরি, বেত আঁচরা, দুধরাজ, পেইন্টেট কিলব্যাক, হেলে, ঘরগিন্নী, দারাশের মতো অসংখ্য বিষধরও নির্বিষ সাপ উদ্ধার করে উন্মক্ত পরিবেশে অবমুক্তর পাশাপাশি অপচিকিৎসাসহ ওঝাদের বিরুদ্ধে গনসচেতনা সৃষ্টিতে কাজ করছেন লিপ্টু ও তাঁর টিম। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও অজ্ঞতাও কুসংস্কার আতংকে মানুষ উপকারী অনেক সাপ মেরে ফেলছেন।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুসারে, প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ লাখের অধিক মানুষ সাপের দংশনের শিকারও হচ্ছেন। আর বিষধর সাপের কামরে মারা যায় ৬ হাজার মানুষ। তার মধ্যে ৭০ ভাগ মানুষ মারা যায় অপচিকিৎসায়। বিশেষ করে গ্রামীন জনপদ ও বেশি বন্যা কবলিত এলাকার বাসিন্দারা সাপ আতংকে ভোগেন। সাপ নিজে আক্রান্ত না হলে মানুষকে কামড় দেয় না ও বিষধর সাপের আচরণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রত্যয়ে সাপ উদ্ধার কাজে মনোনিবেশ করেন হাওর অঞ্চলের বাসিন্দা ওসমানীনগর উপজেলার সিমান্তবর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের লিপ্টু দাস।

দক্ষতা ও কৌশলের মাধ্যমে সাপকে উদ্ধারপূর্বক চিকিৎসা করিয়ে প্রকৃতির ছেড়ে দেয়ার প্রযুক্তির অগ্রগতির অর্জনে প্রথমে লিপ্টু দাল যোগদেন বেসরকারি সংস্থা স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশে। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সিদ্দিকুর রহমানের ত্বত্তাবধানে প্রশিক্ষন নিয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের প্রত্যান্ত অঞ্চলে দক্ষতার সাথে লেকালয়ে আসা বিষধর ও নির্বিষ সাপ উদ্ধারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে তিনি হয়েছেন সফল ফিল্যান্সার।
বিগত দুই বছরে স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ নামে সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে সারা দেশে প্রায় দুই হাজারের অধিক বিষধর সাপ উদ্ধার করে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে লিপ্টু দাশ বলেন, সাপ সহ প্রতিটি প্রাণী পরিবেশের ইকো সিস্টেম মেইনটেইন করে আমাদের না জানার ফলে সময়ের সাথে অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যার ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব পরিবেশের উপর পড়ছে। পরিবেশ বাঁচাতে হলে আমাদেও প্রকৃতিক পরিবেশের প্রাণীগুলো কে ও রক্ষা করতে হবে।

লিপ্টু আরো বলেন, সাপ মানুষের কাছাকাছি বিশেষ করে মানুষের বাড়িতে সাপ ঢুকে পরায় মানুষজন আতংঙ্কিত হয়ে সাপকে তাড়া করে খবর পেল আমরা সেখানে গিয়ে সাপ উদ্ধার করে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেই। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরীর জন্য সাপ সম্পর্কিত অনলাইন ভিত্তিক কোর্সও চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগ্রহী ব্যাক্তিরা কোর্সে অংশগ্রহন করছেন। তাদের মাঝে আমরা সাপ সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান এবং সাপ বিষয়ে করণীয় কাজগুলো সম্পর্কে ধারণা প্রদান করছি। বর্তমানে আমাদের টিমে মোট ৫০ জন সদস্য রয়েছেন এছাড়া ২শজন সদস্য বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য দিয়ে আমাদের সহায়তা করছেন।

শেয়ার করুন